অমিত ভট্টাচার্য, ১৫ আগষ্ট, কল্যাণী: বঙ্গকুম্ভ মেলা প্রাঙ্গণ তথা মাঝের চর কল্যাণীতে ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-এর তরফে আজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এদিন বৃক্ষরোপণের প্রাক মুহূর্তে এক মহতী সভায় সাধুসন্তদের বিপুল সমারোহ পরিলক্ষিত হয়। আজ সকালে রোপণ করা হয় আম, কাঁঠাল, সবেদা, কলা ইত্যাদি ৫০টি উন্নত জাতের ফলের গাছ। আশীর্বাদক সাধুসন্তগণের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সর্বানন্দ অবধূত মহারাজ, পরাশর মহারাজ, কার্তিকানন্দ মহারাজ, অনুজলক্ষ্মণ মহারাজ, প্রব্রজিকা আত্মকামপ্রাণা, শঙ্কর মহারাজ ও আরও সাধু-সন্তগণ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দেশের মাটি কল্যাণ মন্দিরের পক্ষে মিলন খামারিয়া ও অরিত্র ঘোষ দস্তিদার, অধ্যাপক দিলীপ কুমার মিশ্র, শুভেন্দু মণ্ডল, বিপ্লব সরকার প্রমুখ। কল্যাণ মন্দিরের এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলার অধ্যাত্ম জগতের কৃতিব্যক্তিরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য কুম্ভমেলায় এর আগেও সাধুসেবার আয়োজন করেছিল ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির-এর স্বেচ্ছাসেবকেরা। এই অনবদ্য কাজে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল গবেষণা কেন্দ্রের ফলের গাছ ও প্রযুক্তি সহায়তাও পাওয়া গেছে। এ বছর নানান জায়গায় দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আজকের এই অনুষ্ঠানে ড. দিলীপ মিশ্র বলেন -” বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সর্ব-ভারতীয় সমন্বিত ফল গবেষণা কেন্দ্র’-এ আমরা বিভিন্ন প্রকারের ফলের চারা তৈরি করে থাকি। উন্নত জাতের ফলের চারা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই আমরা। তাতে ফল চাষ বা বাড়িতে ফলের গাছ লাগানোর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে।”
স্বামী সর্বানন্দ অবধূত মহারাজ বলেন -” স্বাধীনতা দিবসের পূণ্য লগ্নে দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির-এর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। সবাই মিলে আমাদের এই পরিবেশকে বাঁচাতে হবে। আজ থেকে তার সুদৃঢ় পথ চলা শুরু হল। ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-সমাজের আরও বৃহত্তর কাজে অংশগ্রহণ করুক,এটা আমরা চাই।”
এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজক ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-এর পক্ষ থেকে মিলন খামারিয়া বলেন -” জৈব বৈচিত্র্য বাঁচাতে ও পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ করতে হবে আমাদের। গাছ না থাকলে আমরা কেউ বাঁচতে পারব না। দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির ইতিপূর্বে বাড়িতে বাড়িতে গাছ লাগিয়েছে, আজ মাঝের চর-এ গাছ লাগিয়ে এই পবিত্র স্থানকে ফলের গাছে পূর্ণ করতে চাই আমরা। ভবিষ্যতে আমরা এমন সামাজিক কাজ আরও করব এখানে।”
এদিন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনেক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। তারা গাছ লাগানোতে সাহায্য করার পাশাপাশি নিজেরা বাড়িতে গাছ লাগানোর জন্য কিছু গাছ এখান থেকে নিয়ে যান।
ফল গাছ লাগালে মানুষের পাশাপাশি পরিবেশে বসবাসকারী অন্যান্য পশু-পাখিও খেয়ে বাঁচতে পারে। জৈব বৈচিত্র্য বজায় রাখার জন্য এ এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।