28 C
Kolkata
April 6, 2025
জেলা

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের প্রতারণার জালে জড়িয়ে আত্মঘাতী যুবক

ডায়মন্ডহারবার: সব প্রেমের গল্পই মধুর পরিণতি পায় না কিছু কিছু প্রেমের গল্প অঝরেই ঝরে যায়। গল্পটা শুরু হয়েছিল ৬ মাস আগে ডায়মন্ড হারবার থানা পাতড়া এলাকায় , আগ্নেশ্বরের বাসিন্দা পবিত্র পাইকের (২১) সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতে আলাপ হয় নিশা সরদার নামে একটি মেয়ের। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপের পর শুরু হয় দুজনের প্রেম কাহিনী। এরপর নিশার নানান আবদারে একটু একটু করে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছিল পবিত্রর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। কোন সময় পাঁচশো আবার কোন সময় দুই হাজার একটু একটু করে প্রেমের প্রতারণার গুনে পবিত্রর অ্যাকাউন্ট খালি করতে শুরু করে নিশা। যুবকটি পেশাই দিনমজুর। দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে বাবা-মায়ের ছোট সন্তান ছিল । বাবা প্রতিবন্ধী তাই ছোটবেলা থেকে সংসারের হাল ধরতে দুই ভাই হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতো। কিন্তু সে প্রেমের রঙিন স্বপ্নে ডুবে গিয়েছিল । সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পার্সোনাল ফোন নাম্বার আদান প্রদানে করা হয়। বেশ কয়েকবার পবিত্র নিশাকে বলে তার সঙ্গে দেখা করতে ,নিশা রাজিও হয় দেখা করার জন্য। এর জন্য তাঁর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাও হাতায় নিশা। কিন্তু দেখা করে না, নানান অজুহাতে পবিত্রর সঙ্গে দেখা করা এড়াতে থাকে মেয়েটি । নিশা নামের এটি একটি ফেক অ্যাকাউন্ট সেটা জানতে পারে পবিত্রর একজন প্রতিবেশী। সেই মতন যুবকটিকে সাবধান ও করে ওই প্রতিবেশী কিন্তু তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে। পবিত্র নিশার ভালোবাসার প্রেমের জালে জড়িয়ে পড়েছে। এইরকম ভাবেই চলছিল বেশ কয়েক মাস, কিন্তু ছন্দপতন হলো রবিবার। নিশা পবিত্রর কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকা চেয়ে বসে। কিন্তু দিনমজুর পরিবারের ছেলে সে টাকা যোগান দিতে পারেনি। সে কারণেই তাদের দুজনের মধ্যে ঝামেলা লেগে যায়। নিশা পবিত্রর ফোন ব্লক করে দেয়। এরপর অসহায় যুবকটি বেছে নেয় নির্মম পথ। নিশাকে বারবার ফোন করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় রবিবার বিকেলে নিশাকে একটি হোয়াটসঅ্যাপে সমস্ত ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠায় সে। এরপর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় পবিত্র। স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঘরের দরজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে, ডায়মন্ডহারবার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পবিত্রকে মৃত বলে ঘোষণা করে। সোমবার তাঁর দেহ ময়না তদন্ত হয় ডায়মন্ড হারবার পুলিশমার্গে, ইতিমধ্যে গোটা বিষয় সামনে আসতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে নিশার নামের একটি অভিযোগ দায়ের করে ডায়মন্ড হারবার থানাতে। যখনই অভিযোগ দায়ের করতে আসে ডায়মন্ড হারবার থানাতে, তখনই জানতে পারে নিশা নামের এই সোশ্যাল মিডিয়ার একাউন্টটি ফেক। বাস্তবে নিশা নামে কারোর অস্তিত্ব নেই। নিশা নামে ফেক অ্যাকাউন্ট করে পবিত্রর সঙ্গে প্রেমের প্রতারণা করে, টাকা হাতানোর ছক ছিল জালিয়াতিদের। ইতিমধ্যেই যুবকটির পরিবার ছেলেকে হারানো শোকে ভেঙ্গে পড়েছে। পবিত্রর দাদা সুজিত পাইক তিনি জানান,’গত ছয় মাস আগে আমার ভাই একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক একাউন্টের জালে জড়িয়ে গিয়েছিল। আমার ভাই একটুও টের পাইনি যে এটি একটি ফেক অ্যাকাউন্ট। রীতিমত ভাইয়ের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা হাতায় ওই ফেক অ্যাকাউন্ট । এরপর রবিবার আমার ভাইয়ের কাছ থেকে প্রায় কুড়ি হাজার টাকা চাই। সেই টাকা না দিতে পারায় ভাইয়ের নাম্বার ব্লক করে দেয় এবং তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। এই ব্ল্যাকমেইলের জেরেই বেঁছে নিতে হল আত্মহত্যার পথ । আমরা চাইছি, আমার ভাইয়ের এই খুনিকে শাস্তি দিতে।’ সোশ্যাল মিডিয়াতে ভালোবাসার স্বপ্ন দেখে নিজের জীবন হারালো পবিত্র।

Related posts

Leave a Comment