বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে দেশবিরোধী শক্তি প্রবল শক্তিধর
শঙ্কর মণ্ডল: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিয়ে যতই নাম করা হোক না কেন, চিরকালই এটা পৃথিবীর বিষাক্ত তত্ত্ব ও বিষাক্ত সংস্কৃতির ধারক ও বাহক কমিউনিস্টদের গবেষণাগার হিসেবেই পরিচিত। আজ পড়াশোনা শেষ করার পরেও এই সৌরভ চৌধুরীরা কোন ক্ষমতা বলে হোস্টেলে থাকার ছাড়পত্র পায়? আর এই ছাড়পত্র আজ নতুন নয়। আর একটা কথা জেনে রাখুন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে দেশবিরোধী শক্তি প্রবল শক্তিধর।
সময়টা ২০১০, তখন আমি ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার রাজ্য সম্পাদক। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বাংলায় এসেছে বিকৃত মতবাদের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে। সর্বপ্রথম ও বেছে নিল এই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে। কুলাঙ্গার অধ্যাপক সিদ্ধার্থ গুহ মিথ্যা ইতিহাস নিয়ে বামপন্থার পক্ষে বক্তব্য রাখছে ক্যাম্পাসের মধ্যে অডিটোরিয়ামে। আমরা ওঁদের লোক সেজে ওখানে উপস্থিত হই। না কোনও ভয় কাজ করেনি। যাঁরা আমাদের সাহসিকতা ও সাংগঠনিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তাঁরা এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এখনও ঘটাতে পারেন নি।
যাই হোক, সেই সময় ওখানে ভারতের জাতীয় পতাকা পোড়ানোর মত ঘটনাও ঘটাচ্ছিল। এবং ওরা শসস্ত্রও ছিল, কিন্তু আমরা তীব্র প্রতিবাদ করলাম কোনও ভয় না পেয়ে। প্রবলভাবে মারামারি। অবশেষে আমারা বাইরে বেরিয়ে এসে গেটের বাইরে রাস্তা অবরোধ করলাম। তৎকালীন বাম সরকার এই দেশবিরোধী কাজের জন্য কোনও পদক্ষেপ না করে আমাদের ওপর আঘাত হানল। ঘটনার উল্লেখ করলাম এই কারণে যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে কি এবং কোন ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে, তা বোঝানোর জন্য। তাই এখানে স্বপ্নদ্বীপের মত ছাত্রদের ওপর বিকৃত অত্যাচার হবে সেটাই স্বাভাবিক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই বিষয়ে দায় যেমন এড়িয়ে যেতে পারে না, ঠিক তেমনি গরুখেগো বিকাশ থেকে শুরু করে বাদশা, অপর্ণা সেন সহ তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের মুখ থেকে কোনও আওয়াজ না পাওয়াই তো স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ, দিনের শেষে এগুলো সবকটাই ঐ দেশবিরোধী ও বিকৃত মতবাদের সমর্থক। তদন্ত হচ্ছে, কিন্তু ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে কেন? অভিজিৎ বাবুকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করার জন্য হোক কলরবের মত আন্দোলন ও তাঁকে মমতার সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত ও তারপর অভিজিৎ বাবুকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য যে গভীর চক্রান্ত ছিল, তা আজ পরিষ্কার। এখন পরবর্তী পরিস্থিতি স্থির করবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ।
অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভার্চুয়াল বক্তব্য ও জেপি নাড্ডার উপস্থিতি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যুত্তর বাংলার রাজনৈতিক সচেতন মানুষ আগামী দিনে অভিমুখ নিয়ে কোনও সংশয় রাখবেন না। সুতরাং রাজনৈতিক অভিমুখ পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে ও সেই সঙ্গে চাই ব্যাপক গণ আন্দোলন।
লেখক সংযুক্ত হিন্দুফ্রন্টের সভাপতি ও প্রাক্তন বিজেপি নেতা। এই প্রবন্ধের সমস্ত মতামত তাঁর ব্যক্তিগত।