April 6, 2025
দেশ

মোদী সরকারের নোটবন্দির সিদ্ধান্তে কোনও ভুল ছিল না, রায়ে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

নতুন দিল্লি, ২ জানুয়ারি : অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত রায় ঘোষিত হল সুপ্রিম কোর্টে। সেই সঙ্গে বিরোধীদের মুখ পুড়ল সুপ্রিম কোর্টে। কেন্দ্র সরকারের নোটবন্দির সিদ্ধান্তে যে কোনও ভুল ছিল না, তা আজ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার রায় ঘোষণা করে এমনটাই জানিয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত।

এবিষয়ে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এ বিষয়ে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা কখনও বিবেচনা করে কেন্দ্র সরকারের ওই সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করা যায় না। নোট বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্র সরকারের হাতে। সে কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব এসেছে। সেজন্য নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিকে ভুল বলা যায় না।

নোটবন্দির উদ্দেশ্য সফল কি না তা প্রাসঙ্গিক নয়। এই রায় জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ। এদিন বিচারপতি বিআর গাভাই রায় পড়ে শোনান। গাভাই বলেন, ‘‘অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে ভীষণ সংযমী থাকতে হবে। এ নিয়ে আদালত নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে বদলে ফেলতে পারে না।’’

প্রসঙ্গত, নোট বাতিলের পর গায়ে ছ্যাঁকা লাগে কালো টাকার কারবারিদের। এছাড়া যেসব ভুয়ো সংস্থা বেনামে একাধিক ব্যবসা চালিয়ে কোটি কোটি কর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছিল, তাঁদের মাথায় হাত পড়ে। কারণ, তাঁরা কালো টাকা নগদে লেনদেন করত। ফলে নোট বাতিলের পর ব্যাঙ্কে ওই টাকা জমা করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে। কারণ, আয়কর দপ্তর তাঁদের এই হিসাব বহিৰ্ভূত টাকার উৎস জানতে চাইবে। সেজন্য ঘরে বা অফিসে বা গোপন আস্তানায় থেকে যায় এইসব হিসাব বহিৰ্ভূত কালো টাকা।

এমনকি অনেক রাজনৈতিক নেতাও কোটি কোটি টাকা ঘরে রেখে বিপদে পড়ে যায়। দেশজুড়ে তাঁরা মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন ও বিরোধিতা করতে থাকে। একের পর এক বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা উচ্চস্বরে মোদির বিরুদ্ধে তির্যক মন্তব্য করতে শুরু করেন। সেজন্য তাঁরা প্রভাব খাটিয়ে কোর্টে একাধিক পিটিশন দায়ের করে। কেন্দ্রের নোটবন্দির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁরা।

এব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে ৫৮টি পিটিশন দায়ের হয়। আবেদনে বলা হয়েছিল, কেন্দ্র পরিকল্পনা করে ঠিকভাবে নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নেয়নি। সেজন্য দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা দরকার। এমনকি, পুরনো নোট পরিবর্তনের জন্য যে ৫২ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল তাও ‘অযৌক্তিক’ বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

যদিও শীর্ষ আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, নোট পরিবর্তনের জন্য যে সময় দেওয়া হয়েছিল, তাতে কোনও ভুল নেই। কোনওভাবে সেই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলা যায় না। সাংবিধানিক বেঞ্চের এও পর্যবেক্ষণ, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরবিআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। সেইমতো এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার ছ’মাস ধরে আরবিআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেছিল। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের নোটবন্দির সিদ্ধান্তে কোনও রকম ভুল ছিল না।

Related posts

Leave a Comment