27 C
Kolkata
April 5, 2025
দেশ

মোদী, মমতা, আদানি ও আম্বানি.. আসলে মানুষ নন, ভিন গ্রহের প্রাণী

সুভাষ পাল, সংবাদ কলকাতা: বিশ্বের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা আসলে মানুষ নন, জিনগতভাবে তাঁরা ভিন গ্রহের প্রাণীদের উত্তরসূরী। এমনটাই মনে করেন আমেরিকার ৪ শতাংশ মানুষ। তাঁদের ধারণা, আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, মেটার কর্নধার মার্ক জুকেরবার্গ, টুইটারের মালিক এলন মাস্ক, ব্রিটেনের প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ– এঁরা সবাই ভিন গ্রহের এক সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর বংশধর। প্রাচীনকালে তাঁদের কোনও পূর্ব পুরুষেরা কোনও এক প্রাচীনকালে পৃথিবীতে আসেন। তাঁরা মানুষের বেশ ধারণ করে পৃথিবীর মানব সমাজের সঙ্গে মিশে যান এবং বংশ বিস্তার ঘটান। তাঁদের সেই বংশধররা বর্তমান বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করেছে। তাঁরা অসীম ক্ষমতার বলে বিভিন্ন রাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন। তাঁদের আসল উদ্দেশ্য এইসব ভিন গ্রহের প্রাণীদের আধিপত্য বা সাম্রাজ্য বিস্তার করা। যাকে বলা হয় সর্পিল ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা রেপ্টিলিয়ান কন্সপিরেসি থিওরি।

বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এরকমই একটা বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়েছিল। ডেভিড আইক নামে এক মার্কিন তাত্ত্বিক এই সময়ে এই সর্পিল ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে কিছু বই লেখেন। যা আমেরিকাবাসীর মনে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল। সেই তত্ত্ব অনুসারে, বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতার শরীরে মানুষের রক্ত বইছে না, আসলে তাঁদের রক্তে রয়েছে ভিন গ্রহের সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর রক্তের মিশ্রণ। বিশ্ব রাজনীতিতে চালকের আসনে থাকা এই সব ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা আসলে অন্য গ্রহের প্রাণীদের সাম্রাজ্য বিস্তার করছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হল, কিভাবেই বা এই ভিন গ্রহের প্রাণীরা পৃথিবীতে এল? কিভাবে মানুষের সঙ্গে মিশে গেল? কিভাবেই বা তাদের শরীরে মানব প্রজাতির সঙ্গে জিনগত মিশ্রণ ঘটল? এই বিষয়ের প্রবক্তা ডেভিড আইবকের তত্ত্ব অনুসারে প্রাচীনকালের কোনও এক সময়ে পৃথিবীতে নেমেছিল মানুষের চেয়ে বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন এই সমস্ত প্রাণীরা। তারা পৃথিবীতে এসে মানুষের বেশ ধারণ করে মানব সমাজের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে শুরু করে। ক্রমশ মানব প্রজাতির সঙ্গে জিনগত মিশ্রণ ঘটে তাদের। এভাবে ধীরে ধীরে তারা বংশ বিস্তার করে। তাদের বংশধরেরাই বর্তমান রাষ্ট্রনেতা হিসেবে বিভিন্ন দেশের ক্ষমতা দখল করেছে। তারাই দেশ শাসন, সমাজ নিয়ন্ত্রণ, অর্থনীতির চালিকা শক্তি, এমনকি সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রকেও পরিচালনা করে চলেছেন। ডেভিড আইবকের তত্ত্বে বিশ্বাসী আমেরিকাবাসীরা মনে করেন, এইসব বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্বের শরীরে ভিন গ্রহের সরীসৃপ জাতীয় রক্তের যোগ রয়েছে।

তবে ডেভিড আইবকের তত্ত্বকে যদি সত্যি বলে ধরে নেওয়া হয়, তাহলে জো বাইডেন বা মার্ক জুকের বার্গের মতো এই তালিকায় স্থান পাবেন ভারত তথা এশিয়া মহাদেশের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্বরাও। তাহলে সেই হিসাব মতো মোদী থেকে মমতা, ইন্দিরা গান্ধী থেকে শেখ মুজিবর রহমান, জ্যোতি বসু থেকে শেখ হাসিনা সবাই এই ভিন গ্রহের প্রাণী! বাদ পড়েন না ভারতের শিল্পপতি ও বিখ্যাত তারকারাও। অর্থাৎ গৌতম আদানি থেকে মুকেশ আম্বানি, অমিতাভ বচ্চন থেকে শাহরুখ খান, শচীন তেন্ডুলকার থেকে সৌরভ গাঙ্গুলি, বিরাট কোহলি থেকে মহেন্দ্র সিং ধোনি, উত্তম কুমার থেকে রাজ কাপুর, সুচিত্রা সেন থেকে ঐশ্বর্য রাই সবই ভিন গ্রহের প্রাণী।

কিন্তু প্রশ্ন হল মানুষের বেশধারী এইসব ভিন গ্রহের প্রাণীদের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য কী? কিভাবে তাঁদের চেনা যায়? এই বিষয়ে ফিলিপ বাম্পের একটি প্রতিবেদনে কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ( How to spot the reptilians running the us government) শিরোনামে এক প্রতিবেদনে এইসব প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হয়, কম রক্তচাপ, চামড়ায় নানা দাগ, চোখের মনির রং সবুজ, নীল অথবা হালকা বাদামি বৈশিষ্ট্য থাকলে তাঁদেরকে এই ভিন গ্রহের প্রাণী বলে চিহ্নিত করা যাবে। এদের আরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, এদের মহাকাশ সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ আকর্ষণ থাকবে।

এবিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রন্থে আলোচিত সরীসৃপদের কথা উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ আবার আদম ও ইভের মানব সৃষ্টির কথাও টেনে এনেছেন। বলা হচ্ছে, সাপের ইন্ধনেই নাকি আপেল খেয়েছিলেন ইভ। যদিও বিজ্ঞানীদের মতে, ডেভিড আইবকের এই তত্ত্বে কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই, নেই কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণও। তবু্ও আমেরিকার ৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, মার্ক জুকেরবার্গ, জো বাইডেন, এলন মাস্ক, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং তার গোটা রাজবংশ ভিন গ্রহের প্রাণীর উত্তরসূরী। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, তাহলে ভারতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব ক্ষমতাবান ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন বা ছিলেন তাঁরাও কি এই ভিন গ্রহীদের উত্তরসূরী?

Related posts

Leave a Comment