সংবাদ কলকাতা, ২৩ অক্টোবর: মহাকাশ গবেষণায় ফের বড় সাফল্য দেখাল ভারত। ব্রিটেনের ৩৬টি উপগ্রহ নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিল ইসরোর সবচেয়ে ভারী রকেট। আর এই সফল উৎক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে কার্যত শুরু হল অগ্রিম দেওয়ালি উৎসব। মাত্র ১৯ মিনিটে সফল হয় এই উৎক্ষেপণ প্রণালী।
জানা গিয়েছে, গতকাল রাত ১২টা বেজে ৭ মিনিটে ব্রিটেনের ৩৬টি উপগ্রহ নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দেয় ‘ওয়ানওয়েব ইন্ডিয়া-১’ নামে পরিচিত LVM3 M2 রকেট। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে এই উৎক্ষেপণ করা হয়। এই LVM3 M2 রকেটটি লম্বা ৪৩.৫ মিটার। এর ওজন প্রায় ৬৪৪ টন। এই রকেটটির ৪০০০ কেজি ভার বহনের ক্ষমতা রয়েছে। যদিও ৩৬টি উপগ্রহের মোট ওজন ৫ হাজার ৭৯৬ কেজি।
এই রকেট জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ব্যবহার করা হয়। সেজন্য এর নাম জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (GSLV)। এটি থার্ড জেনারেশনের রকেট। এর প্রধান কাজ লো আর্থ অরবিটে (LEO) ওয়ানওয়েব স্যাটেলাইটগুলিকে প্রদক্ষিণ করা।
উল্লেখ্য, লন্ডনের ওয়ানওয়েব (OneWeb) একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন কোম্পানি। ইন্ডিয়া ভারতী গ্লোবালে এর প্রচুর বিনিয়োগ রয়েছে। মূলত যোগাযোগ পরিষেবার জন্য আর্থ অরবিটে (LEO) প্রায় সাড়ে ছশোটি উপগ্রহের একটি ক্লাস্টার তৈরির পরিকল্পনা করে এই স্যাটেলাইট কোম্পানি।
ইসরোর চেয়ারম্যান ডঃ এস সোমনাথ বলেন, সংস্থার জন্য দেওয়ালি একদিন আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এদিকে ‘চন্দ্রযান-৩’ প্রায় প্রস্তুত। এই রকেট উৎক্ষেপণের জন্য ফেব্রুয়ারি ও জুনে দুটি স্লট ছিল। আমরা জুনের স্লট নেওয়ার কথা ভেবেছি। সেজন্য ২০২৩ সালের জুন মাসে চন্দ্রযান-৩ উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে। এই পর্যায়ে একত্রীকরণ করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রায় সম্পূর্ণ। তবে পরীক্ষা আরও কিছু বাকি আছে। সেগুলি একটু পরে করা হবে বলে জানান ডঃ এস সোমনাথ।
previous post
next post
