সাগর, ২৮ সেপ্টেম্বর: ভোট আসে ভোট যায়। ভোটের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মুখ থেকে প্রতিশ্রুতি পাহাড় নেমে আসে। কিন্তু ভোট মিটে গেলে সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হয় না। অবহেলিত বঞ্চিত মানুষ পড়ে থাকে সেই তিমিরে। ভোটের সময় বেহাল রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল বেশ কয়েকবার। চার বছর কেটে গিয়ে যাওয়ার পরেও সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হয়নি। বাধ্য হয়েই কার্যত আন্দোলনের পথ বেছে নিল গ্রামবাসীরা। বেহাল রাস্তায় কার্যত ধান গাছ রোপন করে অভিনব আন্দোলনের সামিল হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরের রাম করচর গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণনগর গ্রামের ঘোলা পাড়ার কয়েকশো বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় কৃষ্ণনগর গ্রামে ঘোলা পাড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ মিটারের মতো রাস্তার বেহাল দশা ছিল দীর্ঘদিন ধরে। বেহাল রাস্তার কারণে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। গ্রামবাসীদের অভিযোগ রাস্তার বেহাল দশার কারণে গ্রামের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারছে না। এর ফলে প্রসূতি মায়েদের ও রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কার্যত বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। এই বিষয় স্থানীয় এক বাসিন্দা শুভঙ্কর পাত্র জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বারবার সাগর বিধানসভার বিধায়ক তথা সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা এসে দেখে গিয়েছে এবং দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেই রাস্তা সংস্কার হয়নি। এই রাস্তা থেকে প্রতিদিনই ৫টি থেকে ৬টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। এই রাস্তা বেহাল থাকার কারণে গ্রামের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যেতেও অসুবিধা হয়। বারবার প্রশাসনকে জানিও কোনরকম সুরাহা হয়নি। কার্যত বাধ্য হয়েই আমরা এই আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি যত দ্রুততার সম্ভব এই রাস্তা মেরামতির কাজ করুক স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা। এ বিষয়ে গ্রামের এক মহিলা মমতা মণ্ডল বলেন, রাস্তার বেহাল দশার কারণে গ্রামের মহিলাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে খুবই অসুবিধা হয়। বারবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে কিন্তু কিছু হয়নি বাধ্য হয়েই গ্রামের মহিলারা আজ আন্দোলনের নেমেছি।’
previous post