মালদহ: মালদহে পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজনৈতিক হিংসা এবার গৃহে প্রবেশ করল। বিজেপি করার অপরাধে ছেলের হাতে খুন হলেন বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে এই জেলার বামনগোলা ব্লকের কন্যাদীঘি গ্রামে। মৃতের নাম বুরন মুর্মু। ৫৬ বছর বয়সী বুরন এলাকার একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিলেন। কিন্তু তাঁর ছেলে বিপ্লব মুর্মু তৃণমূল কর্মী। এমনকি এবারের পঞ্চায়েত ভোটে বিপ্লবের স্ত্রী তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি প্রার্থীর কাছে ৬০ ভোটে হেরে যান। এতে বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ছেলে বিপ্লব। তার ধারণা হয়, বাবা সক্রিয় বিজেপি করার জন্যই তার স্ত্রী ভোটে পরাজিত হয়েছেন। সেই রাগে বাবাকে খুন করে ঝুলিয়ে দেয় ছেলে। এমনটাই ধারণা পুলিশের।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মদনাবতি পঞ্চায়েতের কন্যাদীঘি গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে বুরনের ছেলে বিপ্লব খুনের পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শনিবার বাড়িতেই বুরনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রের খবর, বুরনের দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কীভাবে এই আঘাত লাগল, কীভাবে বুরনের মৃত্যু হল, পুরোটাই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। গ্রামবাসীরা পুলিশের কাছে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্ত্রী হেরে যাওয়ায় বাড়িতে প্রায়ই বাবার সঙ্গে অশান্তি করতেন ছেলে বিপ্লব। বাবা যেহেতু বিজেপি করেন, তাই বাবার সঙ্গে ঝামেলা লেগেই থাকত। সেই ঝামেলার কারণেই বাবাকে খুন করেছেন ছেলে। এমনই দাবি প্রতিবেশীদেরও।
previous post
next post