সংবাদ কলকাতা, ৫ মার্চ: অবশেষে আজ মঙ্গলবার অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় হাইকোর্টের বিচারপতি পদে ইস্তফা দেওয়ার পরে মুখ খুললেন। তিনি জানিয়ে দিলেন রাজ্যে তৃণমূলকে হঠাতে বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি, তিনি একথাও জানিয়ে দেন, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল আসলে দুষ্কৃতীদের সাম্রাজ্য। সেখানে যাওয়ার কোনও প্রসঙ্গই নেই। বরং এই দুষ্কৃতীদের দল তৃণমূলকে উৎখাত করতেই তিনি বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন। গেরুয়া শিবিরে তাঁর যোগদানের সম্ভাব্য তারিখ ৭ মার্চ বলে জানান। এদিন অভিজিৎ বাবু বলেন, তৃণমূলের মতো দুষ্কৃতীদের দলের সঙ্গে লড়াই করার জন্য বিজেপি-কেই দরকার। তিনি বলেন, শাসকদলের তরফ থেকে আক্রমণ করা হয়েছিল। অপমান করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল সরাসরি ময়দানে নামার। তারাই আমার রাজনীতিতে নামার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাদের দলের কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে যাচ্ছিল। বড় বড় দুষ্কৃতী মন্ত্রী, আমলার ছদ্মবেশে লুকিয়ে ছিলেন, তারা জেলে আছেন বা অন্যত্র আছেন।
তিনি বলেন, বিজেপি দুর্নীতিগ্রস্ত দল কিনা সেটা আমার দেখার নয়। আমি কোনও দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি মুক্ত করব। সৎভাবে রাজনীতি করব। যারা দুর্নীতি করবেন না তাদের রাজনীতিতে আহ্বান করব। ভদ্রলোকরা রাজনীতিতে আসুন। এদিন তিনি রাজ্যবাসীর উদেশ্যে বার্তা দেন। বলেন, শিড়দাড়াটা সোজা করুন, যেখানে বিবেক বলছে সমর্থন করতে পারছেন না, সেটাই করুন। খাটের তলায় শিড়দাড়া খুঁজবেন না।
সেই সঙ্গে তিনি অন্য কোনও দলে না গিয়ে কেন বিজেপিতে যোগদান করলেন তার কারণও ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, আমি ধর্মে বিশ্বাস করি। আমি সিপিএমে যেতে পারতাম। কিন্তু ওরা তো ধর্মে বিশ্বাস করে না। কংগ্রেসে একটি পরিবারের জমিদারি চলছে। সেকারণে সেখানেও যেতে পারি না। ….তৃণমূল ভেতর ভেতর ভেঙে পড়ছে…ওরা বেশি দিন আর বাংলায় নেই। গত ৫-৬ দিনের ছুটিতে থাকাকালীন আমার সঙ্গে বিজেপির কথা হয়েছিল। বিজেপিও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তিনি বলেন, মোদী অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। তিনি দেশের জন্য কাজ করছেন। রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের দুর্নীতির বহু তথ্য আমার কাছে দিয়ে যাবেন বলে আজই তিনজন আইনজীবী জানিয়েছেন।
তিনি এদিন নারদ কান্ড নিয়ে আইনজ্ঞ হিসেবে তাঁর নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন। অভিজিৎবাবু বলেন, নারদ কাণ্ড একটি চক্রান্ত। এখানে কোনও দুর্নীতি ছিল না। এটা কোনও স্টিং অপারেশনই নয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি কুকথা বলার জন্য কুখ্যাত। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পর্কে বলেন, তিনিও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এছাড়া আর কী!
তিনি লোকসভা ভোটে প্রার্থী হচ্ছেন কি হচ্ছেন না, সেবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিজেপি-র ওপরই ন্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতি করলেই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, আমি সেটাই দুর্নীতি মুক্তভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। বিজেপি দুর্নীতিগ্রস্ত কিনা জানিনা। কিন্তু আমাকে দায়িত্ব দিলে, আমি দুর্নীতিমুক্ত রাখার চেষ্টা করব।
এদিকে আজ বিচারপতির রাজনীতিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, সংবিধানের কোথাও বলা নেই, বিচারপতিরা অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারবে না। তাছাড়া, রাজনীতিতে দুর্বৃত্ততে ভরে গেছে, সেখানে স্বচ্ছ ও শিক্ষিত মানুষের আসার প্রয়োজন আছে। নাহলে দুর্নীতি রোধ করা যাবে না। সেজন্য তিনি রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন বলে দাবি করেন। এদিন রাজ্যের সাধারণ মানুষকে দুর্নীতি রোধে বিচারপতির উপদেশ,’আপনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে না পারলেও অন্তত ‘না’ বলুন। তাহলেই অনেকটা কাজ হয়ে যাবে। শিড়দাড়াটা সোজা করুন, যেখানে বিবেক বলছে সমর্থন করতে পারছেন না, সেটাই করুন। খাটের তলায় শিড়দাড়া খুঁজবেন না, জানিয়ে দিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।’
previous post