27 C
Kolkata
February 11, 2026
রাজ্য

বায়োস্কোপকে নিজের সন্তানের মত বুকে আগলে রেখেছেন বাংলাদেশের জলিল মন্ডল

সংবাদ কলকাতা: ছোটবেলায় আমরা অনেকেই দু পয়সার বায়স্কোপ দেখে অনাবিল আনন্দ পেতাম। এই প্রজন্ম সেই স্বর্গীয় সুখ থেকে বঞ্চিত। বরং তারা মজেছে মোবাইল আর টিভি-তে। কিন্তু, এখনও এই বিরল শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন গুটিকয় বাঙালি। এমনই উদাহরণ পাওয়া গেল বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার চায়েরশারা গ্রামে। বাঘমারা থানার এই গ্রামের জলিল মণ্ডল এখনও এই বিরল শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে মানুষকে অকৃত্রিম আনন্দ দিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গিয়েছে, তাঁর বাবা প্রয়াত বকশি মণ্ডল দীর্ঘ ৪৪ বছর বায়োস্কোপের পেশায় জড়িত ছিলেন। পরবর্তীকালে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ১২ বছর বয়সে জলিল এই পেশায় যুক্ত হন। এই বিরল পেশায় এর মধ্যে তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর অতিক্রম করেছেন। বাংলাদেশে দুই যুগ আগেও বায়োস্কোপের প্রচলন ছিল। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে তা আজ বিলীন হয়ে গেছে।

কিন্তু জলিল মণ্ডল আর আগের মতো অকেজো জিনিস হিসেবে ছুঁড়ে দেননি বায়োস্কোপকে। বরং তাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন নিজের সন্তানের মতো। মানুষ বর্তমানে আগের মতো তেমন বায়োস্কোপ না দেখলেও যখনই তাঁর মন চায়, তিনি গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে বায়োস্কোপ নিয়ে ছুটে চলেন। জলিল মণ্ডল বলেন, বায়োস্কোপ এখন আর কেউ টাকা দিয়ে দেখবে না। আক্ষেপের সুরে বায়োস্কোপের ঐতিহ্য এবং তার সাথে অবজ্ঞার কথাও প্রকাশ করেন তিনি। এখন বায়োস্কোপের খেলা দেখিয়ে তিনি ২০ টাকা করে নেন। সারা দিনে আবদুল জলিলের আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মতো। এই বয়সে এই আয় দিয়ে সংসার চলে না। তারপরও তিনি নেশার মতো বায়োস্কোপ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।

বায়স্কোপের অতীত ইতিহাস হাতড়ালে জানা যায়, স্টিফেন্স নামের এক বিদেশি বাংলায় প্রথম বায়োস্কোপ নিয়ে আসেন। সেটা ১৮৯৬ সাল। সেসময় একটি থিয়েটার দলের সঙ্গে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। আর তখনই স্টিফেন্স কলকাতা শহরে প্রথম বায়োস্কোপ দেখান। দুই বছর পর তাঁর অনুপ্রেরণায় মানিকগঞ্জের হীরালাল সেন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে বায়োস্কোপ দেখানো শুরু করেন। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বাংলাদেশজুড়ে। তবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই বায়োস্কোপ এখন বিলুপ্ত প্রায়।

Related posts

Leave a Comment