শঙ্কর মণ্ডল: বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল জায়গায় রয়েছে। আর এই ব্যবস্থায় পৌঁছে দিতে যার অনুপ্রেরণা একমাত্র কারণ, সেই অনুপ্রেরণা প্রদানকারীই আজ ভুল চিকিৎসার শিকার বলে নিজেই বক্তব্য রাখছেন। তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য যেহেতু সরকারি হাসপাতালের আর কোনও বিকল্প নেই, সেহেতু প্রতিনিয়ত ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে সাধারণ মানুষ কোথাও বিকলাঙ্গ ও কোথাও মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে, সে বিষয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন প্রশ্ন হল, তাহলে রাজ্যের ১০ কোটি মানুষকে মাননীয়া কি বিনা পয়সায় এই ভুল চিকিৎসার পরিষেবা প্রদান করছেন?
আর অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো চাল, গম নিয়ে নিজের নাম ট্যাগ করে উনি একইভাবে ১০ কোটি মানুষকে বিনা পয়সায় রেশন দেওয়ার মিথ্যা প্রচার করেন। তার যে কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে আসছে বালুবাবুর কর্মকাণ্ডে, তাঁকে ডিফেণ্ড করতে মুখ্যমন্ত্রী যাই বলুক না কেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার যে বক্তব্য রাখেন, তাতে তৃণমূলের অস্থিরতাই প্রমাণ করে। আসলে স্বাস্থ্য ও রেশন এই দুটো বিষয়েই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলার গরিব মানুষ। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাই বলুক না কেন, রাজ্যের সব লোক রেশন নেয়ও না। আর সব মানুষ সরকারি চিকিৎসার সুযোগও নেয় না। আসলে এই দুই জিনিসই গ্রহণ করেন গরীব মানুষ। আর আজকের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রাজ্যের সার্বিক দুর্নীতি দেশের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
এখন প্রশ্ন হল, এই লাগামহীন দুর্নীতিবাজ তৃণমূলের হাত থেকে গরিব মানুষ মুক্তি পাবে কী করে? ৩৪ বছর এই রাজ্যের স্বর্গরাজ্য প্রদানকারী সিপিএম সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চিৎকার করে। যদিও এই দীর্ঘ সময় ধরে এই রাজ্যের শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, রেশন থেকে শিল্প সব ক্ষেত্রেই বিষাক্ত দংশনের মাধ্যমে এই রাজ্যের সর্বনাশ করেছে যে সিপিএম, আজ তারাই মহুয়া মৈত্র যখন দেশের স্বার্থ বিরোধী কাজের জন্য এথিক্স কমিটির আলোচনায় চেয়ারম্যানের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন, তখন তাঁকে সমর্থন করে তাঁর সঙ্গী হচ্ছে। অনুরূপভাবে কংগ্রেসও ঐ একই পথের পথিক।
আসলে যেকোনও বিষয়ে গুলিয়ে দিয়ে এই দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সব বিরোধী দলের ওপর ক্ষমতার লোভ গভীর প্রভাব বিস্তার করে আছে। সেটাই আজ অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। কারণ এই মুহূর্তে সারা পৃথিবীতে শুধুমাত্র বিষাক্ত উদ্দেশ্য সাধন করতে একদিকে চীন তাইওয়ান দখল করতে মরিয়া।
পাশাপাশি, ভারতের মধ্যে ওদের স্পাই সেলিম, সুজনদের সক্রিয় রাখছে। আর অন্যদিকে হামাসের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সমর্থন করে কর্মসূচি যথেষ্ট সিগনিফিকেন্ট। এমতাবস্থায় এই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল কতকগুলি অপদার্থ লোক নিয়ে দলীয় ক্ষমতা এনজয় করতে এতটাই মরিয়া যে, এখনও ভাল কর্মীদের কাজের থেকে দূরে সরিয়ে নিজেদের পদ অক্ষত রেখে তৃণমূলের ক্ষমতাকেই অক্ষুন্ন রাখতে চায়।
previous post