37 C
Kolkata
April 5, 2025
দেশ

বন্যা বিধ্বস্ত উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলে মৃত প্রায় ১০০

সিমলা, ১৩ জুলাই: বর্ষা নামতেই বন্যা পরিস্থিতি দিল্লি ও উত্তরবঙ্গ সহ দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে। একই সঙ্গে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি উত্তরাখন্ড ও হিমাচল প্রদেশে। প্রবল ধসের জেরে বিপাশা নদীতে তলিয়ে গিয়েছে রাস্তা। ভারী বৃষ্টির জেরে কুলুর সঙ্গে মানালির সংযোগকারী রাস্তার একটা অংশে ঘটেছে এই ঘটনা। এদিকে রোটাং ও অটল টানেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে মানালি-লে হাইওয়েও। তবে সেটা সাময়িক। কারণ মান্ডি ও কুলুর মধ্যে বড় ধরণের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। সেজন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো গতকাল লাহুল ও স্পিতি উপত্যকায় দুইবার ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। কোনও হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও কম্পনের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩.২ ও ৩.১ (রিখটার স্কেলে)। স্পিতি উপত্যকার অবস্থা বিপদজনক। ঘটতে পারে বড় কোনও বিপর্যয়। বাতিল করা হয়েছে সিমলা ও কালকার মধ্যে ট্রেন পরিষেবা। ধস নামার ঝুঁকি থাকায় আপাতত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে আউত সেতু ভেঙে গিয়েছে। যার ফলে মানালির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেজন্য পর্যটকদের এইসব এলাকায় আসতে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এইসব এলাকায় যেসব পর্যটকরা আগে থেকেই এসেছেন, তাঁদেরকে রুম ছেড়ে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুর্যোগের কারণে এ পর্যন্ত হিমাচলে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু টুইট করে জানান, বন্যা বিধ্বস্ত এলাকাগুলি থেকে প্রায় ৬০ হাজার পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য মুখ্যমন্ত্রী নিজে তিনদিন ধরে কুলুতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে বায়ুসেনা বিভাগ। কাসোল ও তির্থন উপত্যকায় প্রায় ১০ হাজার পর্যটক আটকে রয়েছেন। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁরা বেরোতে পারেননি।
উত্তরাখণ্ডে বন্যা কবলিত এলাকায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপদসঙ্কুল হয়ে পড়েছে। বিপদসীমায় বইছে মালান নদী। আজ, বৃহস্পতিবার পৌরীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু জলের তোড়ে ভেসে নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। এরফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে কোটদ্বার সিগাড্ডি জেলা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। কোটদ্বার সিগাদ্দি-লালধাং-হরিদ্বার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এই জেলার প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এখানকার মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ এখন বন্ধ। দ্রুত সেতু মেরামত না হলে এইসব মানুষ অনাহারের কবলে পড়তে পারেন। বদ্রীনাথ জাতীয় সড়কও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চামোলি জেলার পিপালকোটিতে পাহাড় থেকে বোল্ডার গড়িয়ে আসায় এই বিপত্তি ঘটেছে। তাছাড়া ধস নেমেছে গুলাবকোটি ও হেলাং সহ বহু জায়গায়। যার ফলে এই রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

Related posts

Leave a Comment