28 C
Kolkata
April 5, 2025
বাংলাদেশ বিদেশ

ফের অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, সংঘর্ষে হত ৯৭, জারি কার্ফু

ঢাকা, ৪ আগস্ট: ফের অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘অসহযোগ কর্মসূচি’ ঘিরে যে অশান্তির সূত্রপাত হয়, তাতে কেবল রবিবারেই অন্তত ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিস, নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে বুধবার প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯৭ জন। আহত হয়েছেন প্রায় তিন শতাধিক। এই আন্দোলনের মধ্যেই সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনায় ওসি সহ ১৩ জন পুলিসকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের উপর চাপ বাড়াতে এদিন সন্ধ্যায় চার আন্দোলনকারীর দেহ নিয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ারা।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল বাংলাদেশ। প্রবল জনরোষের মুখে পড়ে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট কোটা সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও ন’দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।

ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তি, সমস্ত মামলা প্রত্যাহার, কোটা আন্দোলনে হামলাকারীদের শাস্তি-সহ আরও বিভিন্ন দাবি ছিল আন্দোলনকারী ছাত্রদের। কিন্তু বিগত কয়েক সপ্তাহে পুলিশ-প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগের যৌথ ‘হামলা’য় একের পর এক মৃত্যুর পর এখন নয় দফা দাবির পরিবর্তে একটি মাত্র দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন— হাসিনা সরকারের পদত্যাগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের ‘এক দফা’ দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের ছাত্রদের মঞ্চ ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। সেই আন্দোলন ঘিরেই রবিবার রক্তের স্রোত বইল বাংলাদেশের রাস্তায়। ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষের পর বাসের আগুন যেন সেই হিংসারই ‘প্রতীকী’ চিত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়েছেন, ছাত্রদের নাম করে বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালাচ্ছে সন্ত্রাসবাদীরা। আন্দোলনের নামে হিংসা ছড়ানোয় জড়িতদের যে কোনওমতে রেয়াত করা হবে না, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্রমশই ভয়াবহ হয়ে উঠছে সমগ্র বাংলাদেশের পরিস্থিতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার সন্ধ্যা ছ’টা থেকে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করা হয়েছে। ফের বন্ধ করা হয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা। মাঝে কয়েকদিন অফিস-কাছারি খুললেও সোমবার থেকে ফের তিন দিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরেও পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন দেশবাসী। তার বড় কারণ বাংলাদেশের হাইকোর্টের একটি ঘোষণা।

হাসিনার দাবি, আন্দোলনের নামে দেশে নাশকতা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আম জনতাকে শক্ত হাতে এই সন্ত্রাসবাদীদের দমনের ডাক দিয়েছেন তিনি। রবিবার ঢাকায় গণভবনে সেনাবাহিনীর তিন শাখার প্রধান সহ পুলিস, র‌্যাব, বিজিবির প্রধান ও অন্য আধিকারিকদের নিয়ে একপ্রস্থ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে বাসরত ভারতীয় ছাত্র ও নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাই-কমিশন। এদিকে বাংলাদেশের আদালত জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ বা অন্য নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনে গুলি চালাতে পারে। তাতে অবশ্য দমছেন না আন্দোলনকারীরা। কার্ফু উপেক্ষা করেই সোমবার ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

Related posts

Leave a Comment