শ্রীকুমার পাল, সংবাদ কলকাতা, ২৬ নভেম্বর: উত্তর ২৪ পরগণার পাঁচপোতা ভারাডাঙ্গা হাইস্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রমরমিয়ে টিউশন করার অভিযোগ তুলল পশ্চিমবঙ্গ গৃহ শিক্ষক কল্যাণ সমিতি। শনিবার এই গৃহ শিক্ষক সংগঠনের ঝাউডাঙ্গা – বেড়ী পাঁচপোতা – সুটিয়া ইউনিটের পক্ষ থেকে একটি প্রচার অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল, যে সমস্ত স্কুল শিক্ষকরা সরকারি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে টিউশন করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা।
উল্লেখ্য, সরকারি আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক প্রাইভেট টিউশন করতে পারবেন না। সেজন্য সরকারের তরফ থেকে প্রতি বছর একটি মুচলেকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও মিথ্যা মুচলেকা দিয়ে প্রতি শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই তাঁরা কোমর বেঁধে নেমে পড়েন ছাত্র ধরতে। অভিযোগ, ছাত্র ও অভিভাবকদের বিভিন্ন প্রকার প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে টিউশন করছেন তাঁরা। এভাবে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা জমিয়ে যাচ্ছেন। এইসব অসাধু স্কুল শিক্ষকদের কাছে না পড়লে পরীক্ষায় তাঁদের হাতে থাকা প্রাপ্য নম্বর দেওয়া হবে না বলে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এরই প্রতিবাদে আজ ঝাউডাঙ্গা-বেড়ী পাঁচপোতা-সুটিয়া ইউনিটের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সজাগ করতে এই প্রচার অভিযান চালানো হয়। ইউনিটের এক সদস্য বলেন, এলাকার স্কুল শিক্ষকরা সরকারকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টিউশন করছেন। বিশেষ করে পাঁচপোতা ভারাডাঙ্গা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক বছরের পর বছর এই কাজ করে চলেছেন।
এদিকে পাঁচপোতা গ্রামবাসীদের তরফে একটি গোপণ সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বিশেষ করে এই স্কুলের তিন শিক্ষক সুদীপ কুমার সরকার, সন্দীপ চন্দ্র ঘোষ ও আরও একজনের বিরুদ্ধে লুকিয়ে চুরিয়ে বছরের পর বছর টিউশন করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁরা পাঁচপোতা বাজারে ও তার আশেপাশেই ঘর ভাড়া নিয়ে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ রেখে টিউশন পড়াচ্ছেন। যে কথা জানেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাশয়। কিন্তু তার কোনও প্রতিকার হয়নি।
এছাড়াও ঝাউডাঙ্গা-বেড়ী পাঁচপোতা-সুটিয়া এলাকায় একাধিক স্কুল শিক্ষকরাও এভাবে টিউশন করেন বলে একাধিক সূত্রের খবর। তাঁরা অন্যান্য বিভিন্ন এলাকার স্কুলের শিক্ষক বলে না গিয়েছে। এইসব শিক্ষকরা হলেন কেওটালি এফ পি স্কুলের ইন্দ্রজিৎ কুমার হালদার, সুদীপ চন্দ্র মন্ডল; তেঁতুলবেড়িয়া এফপি স্কুলের প্রসেনজিৎ কুমার দাস, হাবড়া এফ পি স্কুলের রাজু আলি, গড়জালা এফ পি স্কুলের বিশ্বজিৎ কুমার সর্দার, সুটিয়া-বারাসত পল্লী উন্নয়ন বিদ্যাপীঠের শ্যামাপ্রসাদ সাধুখান, বেড়ি গোপালপুর আদর্শ বিদ্যাপীঠের অভিজিৎ কুমার ঘোষ, বালকি হাইস্কুলের সুজিত কুমার ঘোষ, শশাডাঙ্গা এফ পি স্কুলের প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল, পূর্ব বারাসাত এফ পি স্কুলের আশীষ কুমার মন্ডল ও রাজু কুমার সাধুখাঁ। তবে গৃহশিক্ষক সংগঠনের কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সিংহভাগ অভিভাবক সম্প্রদায়।
previous post
next post