28 C
Kolkata
April 6, 2025
উত্তর সম্পাদকীয়

তৃণমূল দলটা কি দুর্নীতির কেন্দ্রস্থল হয়ে গেছে?

শঙ্কর মণ্ডল: বাংলা দেখল আজ এক রণক্ষেত্র। ভাঙরও তাকে কেন্দ্র করে কলকাতার ধর্মতলায় পুলিশ ও আই এস এফ নামক এক রাজনৈতিক দলের ব্যানারে একদল বিশেষ সম্প্রদায়ের খণ্ডযুদ্ধ। এই আইএসএফ দলকে সমর্থনের কোনও প্রশ্নই নেই। কারণ এই দল সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক।কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল যখন কর্মসূচি নেয়, তখন তাকে বাধাদান কখনও গণতন্ত্রের প্র্যাক্টিস হতে পারে না। আর আরাবুলের মত অশিক্ষিত একটা মস্তানকে রাজনৈতিক নেতার মর্যাদা দিতে হচ্ছে কেবল এই রাজ্যের শাসক দলের জন্য। অবশ্য এই অশিক্ষিত মস্তানরাই তৃণমূলের ভরসা। সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এরকমই এক চরিত্র বীর কেষ্ট এখন জেল খাটছে। আর এই আরাবুল বা কেষ্টদের হয়ে প্রসঙ্গ ব্যতিরেকে কেবল গলা ফাটাতে টেলিভিশন চ্যানেলে হাজির হয় যারা, কাগজে কলমে শিক্ষিত হলেও ওগুলো মূর্খের ভূমিকাতেই অবস্থান করে।

আজ আর এক রত্ন, যুবনেতা কুন্তল ঘোষ ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছে। এই ব্যক্তির কাছে কত টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বা আগামী দিনে উঠবে, সেটা বোঝা মুশকিল। ১৯ কোটি থেকে এখন ৩০ কোটি। যেন কোটি টাকা এখন জল ভাত। তাহলে কি এই তৃণমূল দলটার সাথে দুর্নীতি বা বলা ভাল কোটি কোটি টাকা রোজগার করার একমাত্র কেন্দ্রস্থল হয়ে গেছে?

যাইহোক, কতকগুলি প্রশ্ন করতে চাই আজকের ঘটনা প্রসঙ্গে। নম্বর এক, পুলিশ অভিযোগ করছে আইএসএফ বিনা প্ররোচনায় পুলিশকে আক্রমণ করেছে। তাহলে এই পুলিশ কী ভূমিকা পালন করবে? আর বিজেপির নবান্ন অভিযানের পর পুলিশ নাকি আক্রান্ত হয়েছিল। তাই এই রাজ্যের যুবরাজ এই আন্দোলনকারীদের কপালে গুলি করার নিদান দিয়েছেন। কিন্তু আজকে কি ওই একই কথা বলতে পারবেন অভিষেক ব্যানার্জি? ওপেন চ্যালেঞ্জ করতে চাই। আর বাগদার রঞ্জন, মানে চন্দন মণ্ডলকে দীর্ঘ জেরা করার পর তার থেকে কী তথ্য উঠে আসে তা ভবিষ্যত বলবে। কিন্তু ওর বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে, ও ভাজা মাছ উলটে খেতে জানে না। আর এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু করতে দুর্গাপুরের বৈঠক খুব ভাল। কিন্তু নেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট থাকবে তো? কারণ এত কিছুর পরেও তৃণমূলের অফিসে বিধায়কের ছবি বড়ই বেমানান। তবে এই মুহূর্তে বাংলা কলমের অভাব ভীষণ অনুভব করছে। কিছু অভিনেতা ও অনুপ্রাণিত শিল্পী, লেখককে সুশীল সমাজের তকমা এঁটে, আর যাই হোক বাংলার কলমের পরিধি বেধে দেওয়া যাবে না। এমনকি আইনের অপব্যবহার করে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধেও চাই তীব্র প্রতিবাদ।

Related posts

Leave a Comment