ডায়মন্ডহারবার: কথায় রয়েছে “সব তীর্থ বারবার গঙ্গাসাগর একবার।” সেই কথা যেন এখন অতীত। এখন “সব তীর্থ একবার গঙ্গাসাগর বার বার”। গঙ্গাসাগরে আসা পুর্ণ্যার্থীদের জন্য সুখবর । এবার ডায়মন্ডহারবার থেকে সাগর পর্যন্ত জলপথে শুরু হল এক বিলাসবহুল ক্রুজ পরিষেবা। গত বছর গঙ্গাসাগর মেলার আগে কলকাতার বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ক্রুজ পরিষেবা চালু হয়েছিল। এবার সেই বিলাসবহুল ক্রুজ পরিষেবা চালু হল ডায়মন্ডহারবার থেকে। একটি বেসরকারি সংস্থা অসপ্রে ওয়াটার ওয়েজ ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে গতকাল সোমবার থেকেই পরীক্ষামূলক পরিষেবা চালু করল সংস্থাটি। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে , আপাতত সপ্তাহের তিন দিন এই পরিষেবা চালু থাকবে । মূলত শুক্র, শনি ও রবিবার প্রাথমিকভাবে এই পরিষেবা চালু থাকবে। প্রতি সপ্তাহে ডায়মন্ডহারবার জেটিঘাট থেকে সকাল ৯.৩০ মিনিটে গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে এই বিলাসবহুল ক্রুজটি। বিকাল ৪.৩০ মিনিট নাগাদ কচুবেড়িয়ায় পৌঁছাবে । আবারও পাঁচটা নাগাদ কচুবেড়িয়া থেকে রওনা দিয়ে ডায়মন্ডহারবার জেটি ঘাটে যাত্রীদের নিয়ে আসবে। এই ক্রুজের বিলাসবহুল যাত্রার খরচ খুবই কম। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ক্রুজে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। একটি ক্লাসিক ও অপর একটি প্রিমিয়াম । ক্লাসিক পরিষেবার ভাড়া যাত্রী পিছু মাত্র ৩৪৮ টাকা ও প্রিমিয়াম পরিষেবার ভাড়া ৩৯০ টাকা। যাত্রীদের আসন সংখ্যা ১৫৬। ক্রুজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরিষেবা এখন সপ্তাহে তিন দিন চলবে। যদি যাত্রী সংখ্যা বাড়ে তাহলে আগামী সপ্তাহে ৭ দিনই এই ক্রুজ পরিষেবা দেওয়া হবে। এদিন পরীক্ষামূলকভাবে ক্রুজটি তার যাত্রা শুরু করে। এক তীর্থযাত্রী জানান, ডায়মন্ডহারবার থেকে গঙ্গাসাগর কম খরচে ক্রুজ পরিষেবা চালু হওয়াতে অনেকটা সুবিধা হল। জলপথের মাধ্যমে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়া ফেরিঘাটে। সময় যেমন কম লাগবে তেমনি খরচ অনেকটাই কম। গঙ্গাসাগর মেলার সময় এই পরিষেবা অত্যন্ত লাভজনক হবে পুণ্যার্থীদের । এই পরিষেবা চালু হওয়াতে কাকদ্বীপের লট নম্বর আট ফেরিঘাট থেকে কচুবেড়িয়া পর্যন্ত যে ভেসলে যাত্রীদের ভিড় এবং চাপ থাকে সেই চাপ এড়ানো যাবে এমনটাই মনে করছেন যাত্রী সাধারণের এক অংশ।
previous post