বিশেষ সংবাদদাতা, জয়নগর: কালীপুজোর পরের দিন ভোররাতে বাড়ির কাছে একটি স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হন জয়নগরের দাপুটে তৃণমূল নেতা সাইফুদ্দিন লস্কর। এই তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় জয়নগরের বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের দোলুয়াখাকি লস্কর পাড়া এলাকা। গ্রামবাসীদের বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে। তৃণমূল নেতা খুনের এই ঘটনায় বেশ কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন অভিযুক্ত শাহরুল শেখ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশের হাতে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই খুনের ঘটনায় “মাস্টার মাইন্ড” আনিসুর লস্কর ও সঙ্গীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্তদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে পুলিশের হাতে। উঠে আসে এই খুনের অন্যতম অভিযুক্ত রবিউল সর্দারের নাম। রবিউল সরদারের বাড়ি জয়নগর থানার অন্তর্গত কাশিপুর এলাকায়। তৃণমূল নেতার খুনের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য চার লক্ষ টাকা ব্যয় করেছিল এই রবিউল। বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তদেরকে টাকা দিয়েছিল সে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, বকুলতলা থানার ২২ নম্বর হাঁটা এলাকা থেকে অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করে জয়নগর থানার পুলিশ। রবিবার অভিযুক্তকে বারুইপুর মহকুমার আদালতে পেশ করা হয় । অভিযুক্তর বিরুদ্ধে খুনের পরিকল্পনা সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। এই খুনের ঘটনার কিনারা করার জন্য অভিযুক্ত রবিউলকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করে পুলিশ। অভিযুক্তের দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বিচারক। বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালী জানান, জয়নগরের তৃণমূল নেতা সাইফুদ্দিন লস্করের খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে একের পর এক অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হচ্ছে। এই খুনের ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সেটা জানা যাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর। দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনানুপ উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
previous post