28 C
Kolkata
April 6, 2025
রাজ্য

কোচবিহারে বোমাকে বল ভেবে খেলতে গিয়ে গুরুতর জখম শিশু

কোচবিহার: বছরের প্রথম দিনেই কোচবিহারে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মাথাভাঙ্গার কেদারহাটে একটি কালভার্টের নীচে রাখা বোমা ফেটে আহত হল একটি শিশু। ৯ বছরের ওই শিশুটির নাম সুজয় বর্মন। সে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র।

জানা গিয়েছে, আগে থেকেই কালভার্টের নীচে রাখা ছিল বোম। বাচ্চারা খেলতে খেলতে সেখানে গেলে সুজয় বোমাটিকে বল ভেবে ছুঁড়তে গিয়ে ভয়ংকর শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে মারাত্মকভাবে আহত হয় শিশুটি। সুজয়ের মাথা, মুখ সহ ঘাড়ের অনেকটা অংশ পুড়ে গিয়েছে। মুখের ভিতরে তালুও পুড়ে গিয়েছে অনেকটাই। তাকে প্রথমে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে এমজেএন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। যদিও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসার পরই মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতাল থেকে ছেলেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। চিকিৎসকরা ওর অবস্থা স্থিতিশীল জানিয়েও উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ঘটনাটি ঘটে মাথাভাঙ্গার দীঘলটারিতে। সেখানে একটি কালভার্টের পাশে সমবয়সি কয়েকজনের সঙ্গে খেলছিল সুজয়। তিন বছরের একটি শিশুও তাদের সঙ্গে খেলছিল। তখন সে বল আকৃতির একটি বস্তু দেখতে পায় আর্বজনার ভিতর। বল ভেবে সেটিকে হাতে তুলতেই বিকট আওয়াজ করে ফেটে যায়। ধোঁয়ায় ভরে যায় চারিদিক। সুজয় কালভার্টের পাশেই খেলছিল। সে আহত হলেও তার অন্য সঙ্গীরা অক্ষত ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মাথাভাঙা থানার পুলিস। তাঁরা এসে খতিয়ে দেখেন গোটা এলাকা।

এখানকার এক কৃষক ধনপতি বর্মন জানান, আমি ঘটনার সময় খেতে জল দেওয়ার জন্য কালভার্টের নীচের জলাশয় থেকে পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ করছিলাম। সুজয়ের সঙ্গে আমার তিন বছরের ছেলেও খেলছিল। এমন সময় আচমকা প্রচন্ড একটি আওয়াজ শুনে চমকে উঠি। তাকিয়ে দেখি সুজয় মাটিতে পড়ে রয়েছে। দু’হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে রেখেছে সে। সঙ্গে সঙ্গে ওর বাবা-মা’কে খবর দিই। এরপর ওকে আমরা মাথাভাঙা হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগে থেকেই কালভার্টের নীচে বোমা ফেলে রেখেছিল দুষ্কৃতীরা। অশান্তি বাধানোর পরিকল্পনা করেই ওখানে তারা বোমা রেখেছিল। ছেলেটি কিছু না বুঝে সেটা নিতে গিয়েই ফেটে যায়। পুলিস গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করুক। যদিও কে বা কারা ওখানে বোমা রেখেছিল তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Related posts

Leave a Comment