সংবাদ কলকাতা: অসুস্থ আফতাব আনসারী। হাই সুগারে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন রোগে ভুগছে সে। ২০০২ সালের ২২ জানুয়ারি কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী। সেসময় এই হামলার নাগাল পেতে তদন্ত করে জানা যায়, হামলার মূল চক্রান্তকারী দুবাইতে বসে আছে। সেই বছর ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে দুবাই থেকে কলকাতায় আনা হয়। তখন থেকেই সে উচ্চ সুগারের রোগী। এখন তার বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি। টানা ২১ বছর কারাদণ্ড ভোগ করার পর বয়সের ভারে এখন সে ন্যূব্জ। আগের মতো চলতে ফিরতেও পারে না সে। অত্যধিক মাত্রায় সুগারের জন্য এখন তার শরীরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিডনি ও হৃৎপিন্ড। মানসিকভাবেও যথেষ্ট ভেঙে পড়েছে সে। মাঝে মধ্যে বুকের ব্যথার জন্যও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে।
সূত্রের খবর, গ্রেপ্তারের আগে থেকেই হাই সুগারের রোগী আফতাব। সেসময় সিবিআই দুবাই থেকে তাকে গ্রেপ্তারের কর দিল্লিতে আনার সময় ইনসুলিন ইঞ্জেকশন দিতে হয়েছিল। এমনকি পরবর্তীতে হাই সুগারের জন্য তার বাম চোখে ছানি পড়ে। ২০১৫ সালের শুরুতে সেই ছানি অপারেশন করা যাচ্ছিল না। অবশেষে ওষুধের সাহায্যে সেই সুগার বেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এরপর তার ছানি কাটা হয়। মাঝে বুকে ব্যাথার জন্যও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২২ জানুয়ারি মোটরবাইকে এসে জঙ্গিরা হামলা চালায় আমেরিকান সেন্টারে। একে-৪৭ থেকে ছোঁড়া গুলিতে কলকাতা পুলিশের পাঁচ কনস্টেবলের প্রাণ যায়। ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধান চক্রান্তকারী অভিযোগে ডন আফতাব আনসারিকে দুবাই থেকে দিল্লি আনা হয়। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় তদন্তভার। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয় সে। প্রথমে ফাঁসির সাজা হলেও পরে সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদন্ড রদ করে। পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। আমৃত্যু সাজাপ্রাপ্ত আফতাব এখন প্রেসিডেন্সি জেলের এক নম্বর সেলে বন্দি।
কলকাতা পুলিশের এসটিএফ বর্তমানে আফতাবের মামলার দেখভাল করছে। সবই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই করা হচ্ছে। সেজন্য গোয়েন্দারা সপ্তাহে একবার জেল পরিদর্শনে যান। সেই রুটিন ভিজিট থেকেই আফতাবের শরীর সম্পর্কে উঠে এসেছে এই তথ্য।