28 C
Kolkata
April 6, 2025
দেশ

করই ভরসা কেন্দ্রের

২২ জুলাই শুরু হচ্ছে সংসদের বাজেট অধিবেশন ৷ ২৩ জুলাই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সাধারণ বাজেট পেশ করবেন ৷ আসন্ন বাজেটে ট্যাক্স সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি বাড়াতে চলেছে কেন্দ্র৷ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখার কথা ভাবা হয়েছে আসন্ন বাজেটে৷ ফেব্রুয়ারি মাসে যখন আবার আগামী আর্থিক বছরের বাজেট পেশ করা হবে, তখন নিশ্চিতভাবে টার্গেট আরও বাড়বে৷ ইতিমধ্যে রফতানি বেড়েছে ২.৫ শতাংশ৷ অনেকেই ভাবতে পারেন, এটাা সুসংবাদ৷ কিন্ত্ত তা নয়৷ কারণ আমদানি বেড়েছে দ্বিগুণ অর্থাৎ ৫ শতাংশ৷ সুতরাং কার্যক্ষেত্রে আমদানি ও রফতানির ফারাক গত বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে৷ জুন মাসের এই হিসাব ঠিক বাজেটের প্রাক্কালে এসে ঘুম কেড়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের৷ এই পরিসংখ্যান জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রক৷ সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত রাজকোষ ভরানোর জন্য একমাত্র টার্গেট সেই আমজনতাই৷

২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে মোট ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল ৩৪ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা৷ যে লক্ষ্যমাত্রা চলতি বছরের অন্তর্বর্তী বাজেটেই কর বানিয়ে করা হয় ৩৮ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা৷ আশা করা হচ্ছে, এরপরও অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি ট্যাক্স আদায় হওয়া সম্ভব মনে করছে অর্থমন্ত্রক৷ পূর্ববর্তী বাজেটে প্রত্যক্ষ কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৯ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা৷ এরপর অন্তর্বর্তী বাজেটে সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ২২ লক্ষ কোটি টাকা৷ প্রত্যক্ষ করের অর্থ হল, ব্যক্তিগত আয়কর এবং কর্পোরেট কর৷

পরোক্ষ করের লক্ষ্যমাত্রা ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের বাজেটে ছিল ১৫ লক্ষ কোটি টাকা৷ আর এই বছরের অর্ন্তবর্তী বাজেটে করা হয়েছিল ১৬ লক্ষ কোটি টাকা৷ অর্থ মন্ত্রকের এই আশার কারণ কী? আয়করের আওতায় দেশের জনসংখ্যার বহুলাংশ এখনও অন্তর্ভুক্ত হয়নি৷ করযোগ্য আয় হলেও অনেকে কর দিচ্ছেন না৷ আবার রিটার্নও জমা দেওয়া হচ্ছে না যথাযোগ্য সংখ্যায়৷ কর প্রদান ও রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য অভিযান চালাতে এখন প্রস্ত্ততি নিচ্ছে আয়কর দফতর৷ কিন্ত্ত যে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে তা হল, সভা-সমাবেশে আত্মনির্ভরতার স্লোগান ক্রমবর্ধমান হলেও কার্যক্ষেত্রে রফতানি বাণিজ্য কেন মুখ থুবড়ে পড়ছে? অন্যতম উদ্বেগের কারণ হল, পেট্রোপণ্য আমদানি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ, অথচ রফতানি বৃদ্ধির হার কমে হয়েছে ১৮ শতাংশ৷

এই আবহে রেলের শীর্ষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় বাজেটে সম্ভবত রেল নিয়ে কোনও নয়া চমকের পথে হাঁটবে না কেন্দ্রের এনডিএ সরকার৷ ২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেল নিয়ে প্রধানত চমকের উপরই ভরসা রেখেছিলেন নরেন্দ্র মোদি৷ সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণ বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম কারণ৷ কিন্ত্ত আদতে তা বু্যমেরাং হয়েছে৷ রেলে নিত্যনতুন চমক দিতে গিয়ে মুখ পুড়েছে কেন্দ্রের৷ বন্দেভারত স্লিপার ট্রেন এখনও শুধুমাত্র ঘোষণাই৷ বন্দে-মেট্রো ট্রেন নিয়ে বিস্তর হাঁকডাক মোদি সরকার করলেও তার প্রোটোটাইপ কোচই এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়নি৷ নতুন কোনও ঘোষণা না করে রেলযাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হতে পারে এবারের বাজেটে৷য়

Related posts

Leave a Comment