শঙ্কর মণ্ডল: তুমি কোনওদিনই যে সততার প্রতীক ছিলে না, তা তোমার একদা ঘনিষ্ট দীপক ঘোষ প্রমাণ করে দিয়েছেন। যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে ওঁর মুখোমুখি হয়ে বা আদালতে ওঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তুমি প্রমাণ করো, তুমি ক্যাডবেরী খেয়ে ও সুপ খেয়ে মিথ্যা অনশন করোনি। তুমি বাকি অনেক অভিযোগের সঠিক উত্তর দিতে পারবে না বলেই মনে করি। কারণ, এব্যাপারে নীরবতায় তা প্রমান করে। আর তোমার প্রচ্ছন্ন মদতেই আজ শান্তনুদের উত্থান। তা নাহলে সেদিন ও যখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদে জিতেছিল, সেদিন তুমি গর্ব করে ওকে ডিফেন্ড করোনি? অবশ্যই করেছিলে।
কারণ, এই শান্তনুরাই হল বীর কেষ্টদের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া একটা শক্তিশালী মডেল। যার সৃষ্টিকর্তা অবশ্য সিপিএম। না, মানে অনুব্রত নয়, ওর গুন্ডামীর যে মডেল আমি তার কথা বলছি। এই রাজ্যের যুবকদের হয় তোলাবাজ আর না হয় পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়েছো। সেই সঙ্গে অনুপ্রেরণা এমনভাবে ছড়িয়ে দিয়েছো, যার মাধ্যমে সরকারি আমলা, সরকারি কর্মচারী, তথাকথিত বুদ্ধিজিবী ও সর্বোপরি পুলিশ, সবকটাই এমনভাবে নিজেদের চারিত্রিক গঠন সামনে মেলে ধরেছে, তাতে এদের কারোরই মেরুদন্ড সোজা আছে বলে মনে হয় না। আর পুলিশ প্রতিদিন যে নিদর্শন তৈরি করছে, তাতে আগামী দিনে কোনও শিক্ষিত পিতা তাঁর ছেলে মেয়ের বিবাহ বাংলার কোনও পুলিশ কর্মচারীর সাথে দেবেন বলে মনে হয় না।
অন্যদিকে নিয়োগ দুর্নীতি দেখে এখন মনে হচ্ছে, এটা চালে কাঁকর বাছা নয়, কাঁকরে চাল বাছা হচ্ছে। OMR শিটে ১৫ কি করে ৫৪ হল, ১৮ কি করে ৫৬ হল, এসব নিয়ে আগামী দিনে গবেষণা করতে হবে। বলা ভালো, হয়তো বা এটা নিয়ে কেউ থিসিস লিখে পিএইচডিও করতে পারেন। যদিও এইসব নিয়ে আলোচনায় যেসব কমরেড গলা ফাটাচ্ছেন, তাদের জন্য একটা কথাই বলতে পারি, সাধু সাবধান! কারণ পশ্চিমবঙ্গে সেন্ট পারশেন বুথে আপনাদের পার্টি করার যোগ্যতার জন্যই চাকরি পেয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। হ্যাঁ, সেই সময়ের কোনও প্রমাণ আদালতে করা সম্ভব নয়। সব কিছুই লোপাট হয়ে গেছে।
যাইহোক, এখন আমাদের লড়াই করতে হবে, বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সেই সঙ্গে বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করার জন্য। একদিকে গর্জে তোলো কলম ও তৈরি কর শক্তিশালী প্রতিরোধ বাহিনী। লোক দেখানো ও দেখনদারি ঐক্য, সংগঠন বা আন্দোলন এই কাজকে কোনওভাবেই সফলতা আনবে না। তাই তো আমি কবিকে কোড করেই বলব, “আমি সেইদিন হব শান্ত/ যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে, বাতাসে ধ্বনিবে না/ অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ, ভীম রণভূমে রনিবে না/ বিদ্রোহী রণক্লান্ত/ আমি সেইদিন হব শান্ত …”
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ লেখক সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্টের সভাপতি। মতামত ব্যক্তিগত।
previous post