শঙ্কর মণ্ডল: আর কয়েক ঘন্টা পর উত্তর-পূর্ব ভারতের তিন রাজ্যের জনগণের রায় জানা যাবে। গণতান্তিক ভারতবর্ষে নির্বাচনের মাধ্যমেই শাসক তৈরি হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, শাসক তার ইচ্ছা অনুযায়ী যা কিছু তাই করতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের সুরক্ষা কোনওভাবেই বিনষ্ট করতে পারে না। রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সরকারের জনবিরোধী কাজের সমালোচনা করতে পারার অধিকার কোনওভাবেই কেড়ে নেওয়া যায় না। ঠিক যেমন আমাদের পশ্চিমবঙ্গে হয়ে চলেছে।
আর এটা তো ঠিক, আজকেও এসপি সিনহার বেনামী ফ্ল্যাট থেকে প্রচুর টাকা ও সোনা পাওয়া গিয়েছে। সঞ্জয় বাবুর বাড়িতে ইডির হানাও এক বিশেষ ইঙ্গিত বহন করে। তবে বাংলার মানুষ আর এসব কিছুতে মাথা ঘামায় না। কারণ দেখতে দেখতে গা সওয়া হয়ে গেছে।
তবে এটাও সত্য, তৃণমূল নিজেদের এই অপকর্মের জন্য সারা ভারতের অন্য রাজ্যের দুর্নীতিকে টেনে এনে নিজেদের জাস্টিফাই করছে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের স্কলারশিপ দুর্নীতি কিংবা মধ্যপ্রদেশের ব্যাপন কেলেঙ্কারিকে কোনওভাবেই সমর্থন করতে আমি রাজি নই। কিন্তু আমরা অবশ্যই তার জন্য তদন্ত ও শাস্তি নিয়ে কথা বলব। আর তাতে যদি কেউ সন্তুষ্ট না হন, তাহলে অবশ্যই তাঁকে আদালতে যাবার পরামর্শ দেব। কিন্তু তাই বলে এই রাজ্যে একের পর এক চুরি, জোচ্চুরিকে কোনওভাবেই বিরোধিতা না করে পারছি না।
আর বিভাস অধিকারী হঠাৎ রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে চাইলে তাঁকে আরও বেশি করে আক্রমণ করতে হবে। এই বিভাসবাবু রাজ্যের মানুষের আধ্যাত্মিক ভাবনাকে নিয়েও যে ব্যবসা করেছেন, সেটাও বলতে বাধ্য হচ্ছি। তবে শঙ্কিত হই এই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের অযোগ্যতার জন্য। কারণ কে জানে, হয়তো এই দলের কেউ এই বিভাসকে সম্পদ মনে করে দলে টানতে চেয়ে বিবৃতি না দিয়ে দেয়। ঠিক যেমন ফ্যাশন ডিজাইনারকে নেতা বানালে যা হয়। তা নাহলে দাঁড়িওলা প্যাঁচা আঁকা লোকটা হঠাৎ একটা বাংলা ভাষা নিয়ে কথা বলায়, তাঁকে আচমকা দলে যোগদানের আমন্ত্রণ জানায়?
আর এই আলটপকা কথা বলার ও সিকিউরিটি নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে কেবল ক্যামেরার সামনে মুখ দেখানোর জন্যই সংগঠন তলানিতে এসে ঠেকেছে। উন্নতি কেবল এই নেতাদের হয়েছে।
